CiscoNetworking

Basic Networking Information part-2 (OSI Model)

OSI Model কী?

OSI (Open System Interconnection): OSI Model মূলত একটি স্ট্যান্ডার্ডস। যার উপর ভিত্তি করে নেটওয়ার্কিং ডিভাইস সমূহ তৈরি করা হয়। এটি তৈরির মূল কারণ হল, কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং এর প্রথম দিকে যেসকল হার্ডওয়ার ও সফটওয়্যার ব্যবহার করা হতো, এই সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার গুল ছিল কোন না কোন কোম্পানি কর্তৃক তৈরি। এই সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার গুলি এমন ভাবে তৈরি কার হচ্ছিল যে এগুলো দিয়ে শুধু তাদের নিজেদের তৈরি ডিভাইস এর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছিল। অন্য কোন কোম্পানির ডিভাইস এর সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছিল না। এই সমস্যা সমাধানের জন্য তৈরি করা হয় OSI Model। OSI Model এমন একটি স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করে, যা অনুসরণ করে নেটওয়ার্কিং ডিভাইস সমূহ তৈরি করা হয়। এর ফলে যে কোন কোম্পানির তৈরি কৃত ডিভাইস অন্য যে কোন কোম্পানির তৈরি কৃত ডিভাইস এর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়।

 

OSI মডেল নির্দেশ করে কীভাবে কম্পিউটার ও অন্যান্য নেটওয়ার্কিং ডিভাইসের মধ্যে যোগাযোগ গড়ে উঠবে ।

OSI কে সাতটি লেয়ার বা স্তরে ভাগ ভাগ করা হয়। এর স্তরসমূহ হলো :

  • এপ্লিকেশন
  • প্রেজেন্টেশন
  • সেশন
  • ট্রান্সপোর্ট
  • নেটওয়ার্ক
  • ডাটালিংক
  • ফিজিক্যাল
osi-model

অ্যাপ্লিকেশন (Application Layer): এটি হলো ওএসআই মডেলের সপ্তম লেয়ার। এপ্লিকেশন লেয়ার ইউজার ইন্টারফেস প্রদান করে এবং নেটওয়ার্ক ডাটা প্রসেস করে।এপ্লিকেশন লেয়ার যে কাজ গুলো করে থাকে রিসোর্স শেয়ারিং, রিমোট ফাইল একসেস, ডিরেক্টরী সার্ভিস ইত্যাদি।

প্রেজেন্টেশন লেয়ার (Presentation Layer): এই লেয়ার নেটওয়ার্ক সার্ভিসের জন্য ডাটা ট্রান্সলেটর হিসেবে কাজ করে। এই লেয়ার যে কাজ গুলো করে থাকে ডাটা কনভার্শন,ডাটা কমপ্রেশন, ইনক্রিপশন, ডিক্রিপশন ইত্যাদি। এই লেয়ারে ব্যবহিত ডাটা ফরম্যাট গুলো হলো .জেপিজি, .এমপিইজি ইত্যাদি।

সেশন (Session Layer): সেশন লেয়ারের কাজ হলো উৎস এবং গন্তব্য ডিভাইসের মধ্যে সংযোগ গড়ে তোলা , সেই সংযোগ কন্ট্রোল করে এবং প্রয়োজন শেষে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা। ডাটা পাঠানোর জন্য ৩ ধরনের কন্ট্রোল ব্যবহার করা হয় ।

  • সিম্পলেক্স : সিম্পলেক্স এ ডাটা একদিকে প্রবাহিত হয়।
  • হাফ ডুপ্লেক্স : হাফ ডুপ্লেক্স পদ্ধতিতে একদিকের ডাটা প্রবাহ শেষ হলে অন্যদিকের ডাটা অন্য দিকের ডাটা প্রবাহিত হয়ে থাকে।
  • ফুল ডুপ্লেক্স : ফুল ডুপ্লেক্স পদ্ধতিতে একইসাথে উভয়দিকে ডাটা প্রবাহিত হতে পারে।

ট্রান্সপোর্ট(Transport Layer): ওএসআই মডেলের চতুর্থ লেয়ার ট্রান্সপোর্ট লেয়ার । এই লেয়ারের কাজ হলো সেশন লেয়ারের কাছ থেকে পাওয়া পাওয়া ডাটা নির্ভরযোগ্যভাবে অন্য ডিভাইসে পৌছানো নিশ্চিত করে। এই লেয়ারে ডাটা পৌছানোর জন্য দু’ধরনের ট্রান্সমিশন ব্যবহার করে:

  • কানেকশন ওরিয়েন্টেড: কানেকশন ওরিয়েন্টেড এ ডাটা পাঠানোর আগে প্রেরক গ্রাহক এর সাথে একটি একুনলেজ সিগন্যাল এর মাধ্যাম কানেকশন তৈরি করে থাকে। ইহা টিসিটি এর ক্ষেত্রে ঘটে থাকে।
  • কানেকশনলেস: কানেকশনলেস ওরিয়েন্টেড এ ডাটা পাঠানোর আগে প্রেরক গ্রাহক এর সাথে কোন একুনলেজ সিগন্যাল এর মাধ্যাম কানেকশন তৈরি করে থাকে না। ইহা ইউডিপি এর ক্ষেত্রে ঘটে থাকে।

নেটওয়ার্ক (Network Layer): এটি OSI Model এর তৃতীয় স্তর । এই স্তর নেটওয়ার্ক ভুক্ত প্রেরক ও গ্রাহক সিস্টেম এর মধ্যে লজিক্যালি সম্পর্ক গড়ে তোলে । দুটি ভিন্ন নেটওয়ার্কের মধ্যে ডেটা স্থানান্তর করার জন্য নেটওয়ার্ক স্তরটি কাজ করে।এই লেয়ারে ডেটা প্যাকেটে নেটওয়ার্ক এড্রেস যোগ করে এনক্যাপসুলেশনের মাধ্যমে। একটি নেটওয়ার্কে একাধিক পাথ থাকতে পারে গ্রন্তব্যে ডাটা পৌছানোর জন্য, এই স্তর একাধিক পাথ হতে সবচেয়ে ভাল এবং কার্যকরি পাথটি নির্বচন করে ডাটা প্রবাহের জন্য। অর্থাৎ ডাটা প্রবাহের জন্য সঠিক ‍রুট নির্ণয় করে এই স্তর।

ডেটালিঙ্ক (Datalink Layer):এটি হলো ওএসআই মডেলের ২য় লেয়ার। ডেটালিঙ্ক স্তরটি নেটওয়ার্ক স্তর থেকে প্যাকেট নেয় এবং এগুলকে ছোট ছোট টুকরো করে যাকে ফ্রেম বলে। আবার ফিজিক্যাল লেয়ার থেকে প্রাপ্ত কাঁচা (Raw) ডেটা সিঙ্ক্রোনাইজ করে ডেটা ফ্রেমে প্যাকেজ করা হয় যাতে উপযুক্ত নোডগুলোর মধ্যে তথ্য রুট করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটোকল থাকে।

ডেটা লিঙ্ক স্তরটি আরও দুটি সাবলেয়ারে বিভক্ত:

  • লজিকাল লিঙ্ক কন্ট্রোল (এলএলসি) সাবলেয়ার প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং ত্রুটি নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করে যা নেটওয়ার্ক নোডগুলির মধ্যে ত্রুটি মুক্ত এবং সঠিক ডেটা ট্রান্সমিশন নিশ্চিত করে।
  • মিডিয়া অ্যাক্সেস কন্ট্রোল (ম্যাক) সাবলেয়ার নেটওয়ার্ক নোডগুলোর মধ্যে ডেটা ট্রান্সমিট করার জন্য অ্যাক্সেস এবং অনুমতি পরিচালনার জন্য কাজ করে

ফিজিক্যাল লেয়ার (Physical Layer): এটি OSI Model এর সর্বনিম্ন স্তর । ফিজিক্যাল লেয়ার ঠিক করে কোন পদ্ধতিতে এক ডিভাইসের সাথে আরেক ডিভাইসে সিগন্যাল ট্রান্সমিট হবে, ইলেকট্রিক সিগন্যাল বা ডাটা বিট ফরম্যাট কি হবে ইত্যাদি। এ স্তর এর প্রধান কাজ হল বিভিন্ন ডিভাইস এর সাথে ফিজিক্যাল সর্ম্পক স্থাপন করা এবং ফিজিক্যাল ডিভাইস এর মাধ্যমে ডেটা এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইস স্থানান্তর করে। এই লেয়ার এ ডাটা সমূহ সাধারণত বিট আকারে বিভিন্ন ফিজিক্যাল মাধ্যমের মধ্য দিয়ে স্থানান্তর হয়।

Comment here